মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

পুর্ববর্তী মামলার রায়

গ্রাম আদালতের পুর্ববতী মামলার রায়

 

শিরোনাম: গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পেলো  সোহেল

আবেদনকারী ও প্রতিবাদীর সামাজিক অবস্থান

আবেদনকারী:(ক) নাম শ্রী সমোরেশ দাস
         (খ) পিতার নাম: সুরিন দাস
               (গ) ঠিকানা: গ্রাম: খেজুরা, ডাকঘর: ডিঙ্গেদহ
                    ইউপি: পদ্মবিলা, উপজেলা: চুয়াডাঙ্গা সদর, জেলা: চুয়াডাঙ্গা।
                (ঘ) বয়স: ৩০ বছর
                (ঙ) পেশা: দিনমজুর/চালক
                (চ) শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বাক্ষরজ্ঞানহীন
                (ছ) পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৬ জন
                (জ) মাসিক আয়: ৫,০০০/-

প্রতিবাদী:    (ক) নাম: মো: কপিল উদ্দীন
               (খ) পিতার নাম: মৃত নুর বকস
               (গ) ঠিকানা: গ্রাম: খেজুরা, ডাকঘর: ডিঙ্গেদহ
                    ইউপি: পদ্মবিলা, উপজেলা: চুয়াডাঙ্গা সদর, জেলা: চুয়াডাঙ্গা।
               (ঘ) বয়স: ৪৫ বছর
               (ঙ) পেশা: ব্যবস্যা
               (চ) শিক্ষাগত যোগ্যতা: অষ্টম শ্রেণী
               (ছ) পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৪ জন
               (জ) মাসিক আয়: ১০,০০০/-

ঘটনার বিবরণ: বাংলাদেশের গ্রামীন সমাজের মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। এ সমাজের মানুষ গুলোর নুন আনতে পানতা ফুরায়। ঠিক তেমনি মধুর জীবনও। মধু আলমসাধু চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। মধুর চাষাবাদ করে উর্পাজন হতো তা দিয়ে ৪জন সদস্যের মুখের আহার যোগাতো। এমনই ভাবে আলমসাধু চালাতে গিয়ে প্রতিবাদীর সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। মধু প্রতিবাদীর প্রতিদিন আমের ভাড়ায় যেত। এবং মৌখিক চুক্তি থাকে যে যেখানে আম নিয়ে যাক না কেন প্রতিবাদী মধুকে ৫৫০/- (পাঁচশত পঞ্চাশ) টাকা ভাড়া দেবে। এই চুক্তিতে রাজি হয়ে মধু প্রতিবাদীর আমের ভাড়ায় যেতে থাকে। প্রতিবাদী মধুর ভাড়ার টাকা মাঝে মাঝে কিছু টাকা বাকি রাখতো। এই ভাবে প্রতিবাদীর নিকট মধুর ভাড়ার টাকা পাওনা হয় ৩,৩৫০/- (তিন হাজার তিন শত পঞ্চাশ) টাকা। মধু এই পাওনা টাকা চাইতে গেলে প্রতিবাদী তা দিতে অস্বীকার করে। মধু কোন উপায় খুজে পাচ্ছিল না এমন সময় রামর্শের মাধ্যমে ২১/০৭/২০১৩ ইং তারিখে ৪/- (চার) টাকা ফিস দিয়ে পদ্মবিলা ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা করেন। মামলা নং ৫০/১৩।
গ্রাম আদালতের কার্যক্রম: ইউপি চেয়ারম্যান নিকট গত ২১/০৭/২০১৩ তারিখে আবেদন পত্রটি উপস'াপন করা হলে আবেদনপত্রটি গ্রাম আদালতের একতিয়ার সম্পূর্ন হওয়ায় মামলাটি ১নং রেজিঃ এ  লিপিবদ্ধ করার আদেশ দেন এবং প্রতিবাদীকে সমন দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রতিবাদীর কোন আপত্তি না থাকায় উভয়কে গ্রাম আদালত গঠনের জন্য সদস্য মনোনয়নের নির্দেশ প্রদান করা হলে আবেদন কারী ইউপি সদস্য মোছাঃ রাশিদা খাতুন ও গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসাবে মোঃ আনোয়ার হোসেনকে মনোনয়ন দেন। এবং প্রতিবাদী তার সদস্য হিসেবে ইউপি সদস্য মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসাবে মোঃ আজিজুল হককে মনোনয়ন করেন। তারপর ইউপি চেয়ারম্যান উভয় পক্ষ মনোনিত ৪জন সদস্য সহ মোট ৫জন নিয়ে গ্রাম আদালত গঠন করেন। এবং ০৭/০৮/২০১৩ ইং তারিখ সুনানীর দিন ধার্য করেন। সুনানীর দিন উভয় পক্ষে কথা শুনে জুরিবোর্ডের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সর্বসম্মত ভাবে সকলের সম্মুখে রায় ঘোষণা করেন। এবং রায়ের কপি আবেদন কারীর ও প্রতিবাদীকে প্রদানের নির্দেশ দেন।

সিদ্ধান-: সকল পক্ষের কথাশুনে গ্রাম আদালত সর্বসম্মতভাবে এই মর্মে সিদ্ধান- দেন যে, প্রতিবাদী ০৮/১১/২০১৩ ইং তারিখের মধ্যে আবেদন কারীকে ৩,০০০/- (তিন হাজার) টাকা প্রদান করবে।

আবেদনকারী ও প্রতিবাদীর মন-ব্য: অল্প খরচে ও সল্প সময়ে সঠিক বিচার পেয়ে অনেক খুশি মো: মধু । তিনি বলেন, উচ্চআদালতে গেলে এত অল্প সময়ের মধ্যে আমি সঠিক বিচার পেতাম না। এই সামান্য টাকা আদায় করতে  উচ্চ আদালতে মামলা করলে আমার অনেক সময় এবং টাকা খরচ হতো। কিন' গ্রাম আদালতে মামলা করে আমার তেমন বেশী খরচ হয়নি। প্রাতবাদী মোঃ মজিবার হোসেন বলেন, উচচ আদালতে গেলে এত অল্প সময়ে বিচার শেষ হত না। এই বিচারে আমি খুশি।

সিদ্ধান- বাস-বায়িত হয়েছে কি না?
  গ্রাম আদালতের সিদ্ধান- অনুযায়ী প্রতিবাদী ৩,০০০/- (তিন হাজার) টাকা ০৩/১১/২০১৩ ইং তারিখ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আবেদনকারীকে প্রদান করে।

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter